জল শুধু জল

মসৃণ-চিক্কণ-কৃষ্ণ-কুটিল-নিষ্ঠুর জলের কথা বলছি না অবশ্য যা দেখে রাখালের চিত্ত বিকল হয়ে পড়েছিল; আমি বলছি সবজে নীল, হাওয়ার পালে ঢেউ তুলে যাওয়া যাওয়া বহতা জলের কথা। সত্যেন্দ্রনাথের পূর্ণযৌবনা ঝর্ণা হয়ত নয়, ‘তুমি স্বপ্নের সখী বিদ্যুৎপর্ণা’ বলে পার্সোনিফাই-ও হয়ত করা যাবে না কিন্তু এ জল দেখে কিছুটা স্বপ্নমেদুরতা আসতে বাধ্য। রঙিন হয়েও সে রঙে প্রগলভতা নেই, স্রোতস্বিনী হয়েও যেন ভাসিয়ে নেওয়ার তাড়না নেই, যা আছে তা শুধুই মানুষপাড়ায় অধিবাসের আকাঙ্ক্ষা।

জাপানী শিল্পী হোকুসাই-এর নাম না শুনেও ওনার আঁকা সর্ববিখ্যাত ছবি ‘In the hollow of a wave off the coast at Kanagawa’ দেখে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা!

Great_Wave_off_Kanagawa

ছবিটার একটা বড় বিশেষত্ব হল ঢেউয়ের গতিমুখ। আমরা সাধারণত ঢেউ আঁকতে গেলে শুরু করি বাঁদিক থেকে, অধিকাংশ সময়ে অবশ্য ছবি শেষ হওয়ার পর বোঝাও যায় না ঢেউ কোনদিক থেকে কোনদিকে যাচ্ছে। সেটা ঠিক শিল্পীর অক্ষমতা নয় – আমরা ঢেউকে দেখি, পড়ি না। হোকুসাই কিন্তু ঢেউকে পড়েছেন, আর তাই জন্যই জাপানী লেখা যেমন ডানদিক থেকে বাঁদিকে যায় ঠিক সেরকমভাবে ঢেউটি সম্পূর্ণ হচ্ছে বাঁদিক ডানদিক থেকে বাঁদিকে গিয়ে। ঢেউটির বিশালত্ব-ও লক্ষ্য করার মতন – একটা আন্দাজ পাওয়া যাবে ঠিক মাঝখানে তাকালে। ঠিক মাঝখানটিতে দেখা যাচ্ছে ফুজি পাহাড়কে, কিন্তু এই বিশাল ঢেউয়ের পাশে পাহাড়কেও মনে হচ্ছে নেহাতই বালখিল্য। ফুজির ঠিক পেছনেই কালো আকাশ দেখা যাচ্ছে বটে কিন্তু চোখ যত ওপরে উঠবে সে কালোর গভীরতা কমে আসতে থাকে। জলের রঙটিও দেখুন, সবজে নীল, অথচ একটা ভয়াবহ বিপদ বোঝানোর জন্য শিল্পী অনায়াসেই জলের রঙ-এও কালোর আধিক্য আনতে পারতেন। কিন্তু হোকুসাই সেটা চান নি, শুধু দেখাতে চেয়েছেন এই পাহাড়প্রমাণ ঢেউ-ও নিতান্তই জীবনের অংশ। সেটা আরোই বোঝা যায় ছবির তিনটে নৌকার সওয়ারীদের দেখে, নৌকার সঙ্গে প্রায় সমান্তরাল অবস্থায় তাঁরা শুয়ে পড়েছেন নৌকার ওপর, যেন ওরকম আসনেই তাঁরা অভ্যস্ত। কোনো তাড়া নেই, ভয়ের চোটে কেউ উঠে দাঁড়ান নি, কেউ ইষ্টনাম জপছেন না, যা ঘটছে সেটাই স্বাভাবিক।

আজকের ব্লগপোস্ট হোকুসাই-এর কিছু ছবি নিয়ে, আর এই সব ছবিতেই মৌলিক বিষয়বস্তু হিসাবে প্রাধান্য পেয়েছে জল।

‘কিয়োটাকি কান্নন’ দিয়ে শুরু করা যাক।

kiyotaki cannon

জলের রঙটি তো চোখ কেড়ে নেবেই, এত স্বচ্ছ, নির্মল জল আর এযুগে চোখে পড়ে কই? কিন্তু রঙের সঙ্গে আরো একটা জিনিস খুঁটিয়ে দেখার মতন –  ঝর্ণার উৎসস্থলটি। চোখের সঙ্গে একটা সাদৃশ্য পাওয়া যাচ্ছে না? বিশেষজ্ঞরা বলেন হোকুসাই বুদ্ধ অমিতাভর চোখের আদলেই এঁকেছেন এই উৎসস্থলটি।  বুদ্ধের অবশ্য বিভিন্ন অবতার, ধারণা করা হয় হিন্দু দেবতা কান্নন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হাতে পড়ে হয়েছেন্ অবলোকিতেশ্বর যার শরীরের আদলও এরকমই গোলাকৃতি। ঝর্ণার পাশেই পাহাড়ের ওপর দেখা যাচ্ছে দুই বাবু এবং তাঁদের কাজের লোককে। কাজের লোকটি জল গরম করছেন আর বাবুরা চুপ করে বসে প্রাণভরে দেখে নিচ্ছেন জলের অপার্থিব রূপটিকে – প্রকৃতি এবং পুরুষের স্বাভাবিক সহাবস্থান।

পুরুষের বদলে প্রাণী বললেও অবশ্য অত্যুক্তি হয় না। নিচের ছবিটির নাম ‘Carp in the waterfall’, একটি মাছ ওপরে উঠছে আর অন্যটি নেমে আসছে, পুরো ছবিটি যেন জীবনচক্রের একটি প্রতীক।

Carp in a Waterfall Katsushika Hokusai

জলের চরিত্রটি একবার দেখুন এ ছবিতে, কি মসৃণ, কি মোলায়ম। অপেক্ষাকৃত রুক্ষ একটি পটভূমিতে এই ঝর্ণা ছবির মধ্যে একটা বৈপরীত্য এনেছে ঠিকই কিন্তু তার পরেও মনে হয় এটাই স্বাভাবিক, এই বৈপরীত্যের নামই জীবন।

স্বাভাবিক বৈপরীত্যর কথা যখন উঠলই তখন একবার দেখে নেওয়া দরকার ‘Whaling off the Goto islands’ ছবিটি।

whaling off

শোনা যায় তিমি শিকার নিয়ে হোকুসাই-এর উৎসাহের অন্ত ছিল না। দু’শ টনেরও বেশী ওজনের একটা প্রাণীকে শয়ে শয়ে নৌকা দিয়ে ঘিরে ফেলে মারা হচ্ছে, এও দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ, তাই না? এ হত্যা তো আত্মরক্ষার খাতিরে নয়, এ হত্যা অর্থনৈতিক লাভের খাতিরে, আর তাই জন্যই বোধহয় এমনকি শিল্পীর কাছেও এ ঠিক ট্র্যাজেডি হয়ে ধরা পড়ে না! তাই দেখুন জলের রঙে এক ফোঁটা লাল-ও আসেনি, হোকুসাই বরং নীল আর সাদার বিভিন্ন শেডে দূরের জল, কাছের জল, চূর্ণিত জল, আলোকিত জল কত কিছু নিয়ে এসেছেন।

এই রং-তুলির খেলায় অবশ্য আমার পার্সোনাল ফেভরিটটি হল ‘Ono waterfall along Kisokaido ‘।

Ono waterfall
হোকুসাই-এর কলম আর তুলির ছোঁয়ায় বরফাবৃত পাহাড় আর জলের ধারা যেন এক হয়ে গেছে, সাদা-নীলের কোন জায়গাটিতে যে বরফ গলে অনাবিল ধারা বেরোতে শুরু করেছে তা ঠাহর করা মুশকিল। সেতুর তলা দিয়ে বয়ে যাওয়া জলের রঙেও মালিন্যের ছিটে টুকু নেই, শুধু পেছনে থেকে গেছে আছড়ে পড়ার মুহূর্তের সাদাটে জলকণাগুলি, সে জলকণাকে ধোঁয়া ভাবলেও হয়ত ক্ষতি নেই। তিন অবস্থাই ধরা পড়ল একটি ফ্রেমে।

কিন্তু হোকুসাইকে আদ্যন্ত রোম্যান্টিক ভাবলে ভুল হবে। তিমি শিকারটিকে যদি বাদও দি, তারপরেও একাধিক আঁকায় হোকুসাই নিয়ে এসেছেন এমন জলচরিত্র যার সঙ্গে রোম্যান্সের বিশেষ সম্পর্ক নেই।

যেমন?

যেমন ‘Washing in a river’।

Washing in a river

এখানেও জল নীলচে, কিন্তু তার মধ্যে দিয়েই বয়ে চলেছে কিছু ধূসর ধারা – মহিলারা কাপড় কাচছেন, পুরুষেরা মাছ ধরছেন, রজক এবং রজকিনীরা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সাদা কিমোনো। ছবির মধ্যে দেখা যাচ্ছে একটি কবিতা (হাইকু নয়) যার বাংলা ভাবানুবাদ দাঁড়াবে,

“বসন্ত মনে হয় গেল,
ফিরেছে গরম পুনরায়;
সফেদ কিমোনোগুলো
ছড়িয়ে দাও, শুকোবে
অপার্থিব ঘ্রাণের চূড়ায়”

অপার্থিব ঘ্রাণটি সম্ভবত রসিকতা করে বলা!

হোকুসাই-এর জলের কথায় ফিরে যাই। নীল রঙের জল যতটা প্রাধান্য পেয়েছে শিল্পীর ছবিতে, আকাশ ততটা নয়, কিন্তু ‘Abe No Nakamaro gazing at the moon from a terrace’ ব্যতিক্রমগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমি আলাদা করে ছবিটির কথা তুললাম কারণ আমার একটি প্রিয় বিষয়কে হোকুসাই ফ্রেমের মধ্যে নিয়ে এসেছেন।

দিকচক্রবাল।

Moon gazing

জাপানের বিশিষ্ট বিদ্বজন এবং কবি নাকামারো কূটনৈতিক কাজে রাজপ্রতিনিধিদের সঙ্গে চীনে গিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হেতু বাকি প্রতিনিধিরা জাপানে ফিরে যেতে পারলেও তিনি পারেননি। চীনেই নাকামারোকে বাকি জীবন কাটাতে হয়; শুরুর দিকে গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হলেও পরভূমে সম্মানের ঘাটতি পড়েনি এমনকি শেষের দিকে তিনি স্থানীয় শাসক হিসাবে কাজও করেছিলেন।

কিন্তু যত সম্মানই পান, ‘প্রবাসে দৈবের বশে’ সুলভ আক্ষেপ নিয়েই জীবন কাটাতে হয়েছে। সেই আক্ষেপ থেকেই হয়ত লিখেছিলেন, “স্বর্গের দিকে তাকিয়ে দেখি/ এই একই চাঁদ কি উঠেছে/ কাসুগার মিকাসা পাহাড়ের ওপরে?”

এই কবিতাকে ভিত্তি করেই হোকুসাই ছবিটি এঁকেছিলেন। কাছের নীল জল দূরে সাদা হয়ে যেতে যেতে কখন যে আকাশের সঙ্গে মিশে গেছে খেয়াল করা যায় না, দূর সমুদ্রের নৌকাগুলোকেও কেন জানি পরাবাস্তব ঠেকতে থাকে। ছবিতে রাজপুরুষ নাকামারোর পাশেই রয়েছেন একাধিক মানুষ, হয়ত তাঁর ফাইফরমাশ খাটতেই, কিন্তু দৃশ্যতই নাকামারো নিজের চিন্তায় বিভোর।

চেতন-অচেতন-অবচেতন যে জায়গায় গিয়ে মিশে গেছে সেটিই যেন হোকুসাইয়ের তুলিতে ধরা পড়েছে দিকচক্রবাল হয়ে।

Advertisements

নায়কের মৃত্যু

গতকাল লেখাটা লিখতে শুরু করেছিলাম, জন্মদিনের দিন এরকম অলুক্ষুণে লেখা দেখে উত্তমপ্রেমীরা হয়ত একটু মনঃক্ষুণ্ণ হতে পারেন কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবৎ বিষয়টা মাথার মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকায় ভাবলাম উৎসাহ থাকতে থাকতে লিখেই ফেলি।

সত্তরের শুরু থেকেই উত্তম খুঁতখুঁত করছিলেন চিরাচরিত ম্যাটিনি আইডল সাজার ব্যাপারে, নায়কের ভূমিকা ছেড়ে বেরিয়ে ছকভাঙ্গা চরিত্রের সন্ধানও করছিলেন। তবে ছকভাঙ্গা হলেই তো হবে না, সে চরিত্রে নিজের অভিনয়ের সুযোগ কতটা সে নিয়ে বিস্তর ভাবনাচিন্তা করতেন, খ্যাতনামা লোকজনদেরও প্রয়োজনবোধে ফিরিয়ে দিতে ইতস্তত করতেন না। পূর্ণেন্দু পত্রীকে যেমন দু’বার হতাশ হতে হয়েছিল – ৭৪-এ উত্তম ফিরিয়ে দেন প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ অবলম্বনে বানানো ‘স্বপ্ন নিয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব, আর তারও ছ বছর আগে ‘চতুরঙ্গ’ এ শ্রীবিলাসের রোলটি নিতে রাজি হন নি।

যাই হোক, অন্যধরণের চরিত্রের সন্ধানে বেরিয়ে শেষের দিকে বহুবার প্রৌঢ়ের ভূমিকায় অভিনয়  করতে দেখা গেছে উত্তমকে। চরিত্রের দাবীতেই  উত্তমকে দেখা গেছে মৃত্যুশয্যায়, যেমন ধরুন ‘অগ্নীশ্বর’ (১৯৭৫)। কিন্তু আজকের লেখায় শুধু এই ধরনের সিনেমা নিয়েই আলোচনা করব না, ফিরে দেখব এমন কিছু সিনেমাও যেখানে উত্তম তরতাজা নায়ক, অথচ সিনেমার শেষে পরিচালক তাঁকে বাঁচিয়ে রাখেননি।

৫৭ সালের ‘বড়দিদি’র কথা ধরলে দেখা যাবে সেখানে পরিচালকের বিশেষ কিছু করার নেই, শরৎচন্দ্রের গল্পের শেষে সুরেন্দ্রনাথ মাধবীর কোলে মাথা রেখে মারা যায়। চল্লিশ বা পঞ্চাশের দশকে টলিউডে রাজত্ব চলেছে শরৎচন্দ্রের – ‘শুভদা’, ‘মন্দির’, ‘মেজদিদি’, ‘দেবদাস’  একের পর এক সিনেমা বানানো হয়েছে ওনার গল্প বা উপন্যাস অবলম্বনে। শরৎচন্দ্রের মহিমা দেখে অজয় করের মতন পরিচালকও মুখ ঘুরিয়ে থাকেননি, উত্তম এবং সন্ধ্যারানীকে নিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন ‘বড়দিদি’। হলিউডে যাকে বলে tear-jerker, এ সিনেমা আদতে তাই।

নায়কের কথায় ফিরি, বড়দিদির নিলামে ওঠা সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দশ ক্রোশের দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়েছে তাও চরম অসুস্থ শরীরে। শেষদৃশ্য তাই প্রায় হ্যালুসিনেটরী গোত্রীয়, একমাত্র বড়দিদিকেই চিনতে পারছেন সুরেন্দ্রনাথ। প্রায়ান্ধকার ঘরে অজয় কর সন্ধ্যারানীর মুখটি রেখে দিয়েছেন আলোআঁধারিতে যাতে দর্শক সুরেনের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে নিতে পারেন, বুঝতে পারেন ঘুমের ঘোরটি ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে। অস্ফূট আর্তনাদ, দীর্ঘ শ্বাস সব কিছু মিলিয়ে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য একটি পরিস্থিতি। অজয় কর মূল গল্পের থেকে একদমই বাইরে বেরোননি, সুরেনের মুখে শরৎচন্দ্র যতটুকু কথা বসিয়েছেন তাই বাইরে এক লাইনও ঢোকাননি সুতরাং শেষে দৃশ্যে কথার আতিশয্য নিয়ে বিশেষ অভিযোগ তোলা যাবে না, খুঁত কেবল একটি জায়গাতেই। “বড়দি, বড় কষ্ট” বলতে বলতে উত্তমের ঘাড় যখন ঝুলে পড়ছে ঠোঁটের কোণায় তখনো লেগে সেই এক চিলতে মায়াবী হাসি। অজয় কর বোধহয় পণ করেছিলেন দর্শককে না কাঁদিয়ে ছাড়বেন না।

1

‘অন্ধ অতীত’ (১৯৭২)-এ মৃত্যু অনেক আকস্মিক। ঘন জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে স্বরূপ দত্ত চোখা চোখা প্রশ্ন করে চলেছেন, উত্তম নত মস্তকে দাঁড়িয়ে, দর্শকের চোখের সামনে খুলে যাচ্ছে নায়কের অন্ধ অতীত। তারপর এক সময় নায়ক মাথা তুলে তাকান, একটাই মাত্র প্রশ্ন ফিরিয়ে দেন। আর দর্শকরা দেখেন তিনি ভিলেন নন, এখনো নায়ক, তবে ট্র্যাজিক। এই অবধি দেখার পর অনুমান করা মুশকিল কি হতে চলেছে, কারণ পাপ-পুণ্যের সাদা কালো সীমানার মধ্যে পরিচালক হীরেন নাগ পড়ে থাকেননি। উত্তম ইতিমধ্যে বেরিয়ে গেছেন গাড়ি নিয়ে, জঙ্গলের পথ ধরেই। জায়গার ভৌগোলিক বিশেষত্ব দেখেও দর্শকরা ধরতে পারবেন না কি ঘটে চলেছে। কিন্তু ততক্ষণে ক্যামেরা প্যান করেছে স্বরূপ দত্তের হাতে ধরা একটা চিরকুটের ওপর, উত্তম লিখে পাঠিয়েছেন সুপ্রিয়া্র জন্য, “তোমরা আমাকে ক্ষমা করো”। কাট,  জঙ্গলের পথ শেষ হয়ে এইবার পাহাড় দেখা যাচ্ছে, উত্তমের মুখে একটা অস্বাভাবিক কাঠিন্য, এত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চোখ-ও তো আগে দেখিনি।

2

কিন্তু এ কি, উত্তম ব্রেক কষার চেষ্টা করছেন যে। প্রাণপণে স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছেন। পাশেই দেখা যাচ্ছে সাইনবোর্ড, তাতে বড় বড় করে লেখা “Caution, Suicide Point”।

এ মৃত্যু ‘বড়দিদির’ মতন সরলরেখা ধরে আসেনি – পাহাড়ের ঢাল বেয়ে যখন গাড়ি গড়িয়ে পড়ছে, আপনি আশাভঙ্গের বেদনায় চুপটি করে বসে। কিন্তু ধোঁয়াশা রয়ে গেল, এ কি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা? নাকি দুয়ের মাঝামাঝি কিছু? আবারো কখন সাদা কালোর খোপ ছেড়ে আমরা এসে পড়েছি একটা ধূসর জায়গায় যেখানে উত্তর নেই, শুধুই প্রশ্ন।

‘বন পলাশীর পদাবলী’ (১৯৭৩) তে অবশ্য আপাতদৃষ্টিতে কোনো প্রশ্ন জাগে না, দর্শক দেখেন ছুরির ফলাটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পদ্মের (সুপ্রিয়া) বুকে গেঁথে যায়। কিন্তু সে তো শুধু আপাতদৃষ্টিতেই, ভাগ্যতাড়িত মানুষের জীবনে দুর্ঘটনাগুলো কি নেহাতই র‍্যান্ডম ইভেন্ট? নাকি সব দুর্বিপাকের পেছনেই আছে কোনো অলিখিত কার্যকারণ সূত্র, যার ব্যাখ্যা আমাদের বুদ্ধিতে কুলোয় না, আমরা নিয়তির হাতে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত থাকি? ‘অন্ধ অতীত’ এর সঙ্গে অবশ্য এক জায়গায় ‘বন পলাশীর পদাবলী’-র মিল আছে, এখানেও উত্তমের চরিত্রটির গিল্ট সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশী। পুরনো পাপের, অতীতের অত্যাচারের স্মৃতি দুটি চরিত্রকেই যেন কুরে কুরে খায়, তাই এখানেও উত্তম পদ্মকে জড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ার মুহূর্তেও নির্দ্বিধায় জানান, “আমি খুন করেছি গো, পদ্মকে আমি খুন করেছি”। এমন একটা সময়ে এ লেখা লিখছি যখন দোষ স্বীকার করার মতন মানুষের বড়ই অভাব, অযুত-নিযুত দোষে দোষী মানুষরাও কদাচিৎ আইনের কাছে মাথা পেতে দেন , তাই উত্তমের চরিত্রগুলি ফিকশনাল হলেও কোথাও যেন ভাবিয়ে যায়। আবার এ কথাও সত্যি যে লেখক বা চিত্রনাট্যকারের মাথায় যে বাস্তব চরিত্রগুলি ঘুরপাক খেয়ে ফিকশনে পরিণত হয় তাদেরকে তো আর আমরা দেখতে পাই না, খালি এটুকুই ভাবতে পারি যে এরকম মানুষও ছিল বৈ কি। কথায় কথায় মনে পড়ল, অনুতাপহীন, সম্পূর্ণ গিল্ট-ফ্রী চরিত্রেও উত্তম অভিনয় করে গেছেন এবং সে অভিনয় বাংলা সিনেমায় ইতিহাসে একটা মাইলস্টোন হয়ে থাকবে, যারা ‘বাঘবন্দি খেলা’ (১৯৭৫) দেখেছেন তাঁরা মনে হয় না এ প্রসঙ্গে অন্য মত পোষণ করবেন।

ফিরে যাই বন পলাশীর কথায়। সরকারী উকিল যখন রায় পড়তে পড়তে বলছেন, “জজ সাহেব আপনাকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করিয়া মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করিয়াছেন”, উত্তম বোবা চোখে তাকিয়ে থাকেন।

3

কিন্তু ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তমের অভিনয় পাল্টে যায়। বোবা চোখ হঠাৎ-ই কথা বলে ওঠে, চোখ দুটো তুলে ফাঁসির দড়িকে দেখতে থাকেন। মুখে যেন একটা অবিশ্বাসের ছাপ, সত্যিই কি এরকম কিছু ঘটছে? একটা ছোট মুহূর্ত কিন্তু কি অসম্ভব বাঙময়।

4

‘শিল্পী’ (১৯৫৬) তে উত্তমের মৃত্যুদৃশ্যটি পুরোপুরিই সুচিত্রার। ধীমানের কাছে ক্ষমা চাইতে অঞ্জনা বড় দেরীতে পৌঁছেছে্ন, অসুস্থ শিল্পী কাজ করতে করতে কখন চলে গেছেন কেউই জানে না।

5

‘শিল্পী’র মতন ‘স্ত্রী’ তেও উত্তমকুমারের মৃত্যুকালীন দৃশ্যে কোনো সংলাপ নেই। বন্দুকের গুলির আওয়াজ শুনে ছুটে লোকজন ছুটে এসে দেখবে জমিদার মাধব দত্ত আত্মহত্যা করেছেন, পাশে কেউ নেই, শুধু চৌচির হয়ে পড়ে রয়েছে মৃতা স্ত্রীর ছবি। অথচ তার একটু আগেই মারা গেছেন সৌমিত্রর সীতাপতি, সীতাপতির মৃত্যুর মতন নাটকীয় দৃশ্য বাংলা সিনেমায় কমই আছে। আক্ষরিক অর্থেই খাবি খাচ্ছেন সৌমিত্র, শেষ নিঃশ্বাস পড়া শুধু সময়ের অপেক্ষা আর তার মধ্যেই মাধব দত্ত জানার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যে শেকড় ফুঁড়ে গজিয়ে ওঠা আগাছা দত্তবাড়িতেও চারাটুকু ফুটিয়ে দিয়ে গেল কিনা।

7

‘শিল্পী’ বা ‘স্ত্রী’র ১৮০ ডিগ্রী বিপরীতে থাকবে ‘দুই পুরুষ’, পরিচালক উত্তম এবং সুপ্রিয়া দুজনকে দিয়েই অতি-অভিনয় করিয়েছেন – শেষ দৃশ্যে জিভ জড়িয়ে গেছে তাতেও উত্তম শিবনেত্র হয়ে বলছেন “আমাকে বলতে দাও”। পুরো সময়টা ধরে দাপিয়ে অভিনয় করে প্রায় ‘বাঘবন্দি খেলা’র বড়বাবুর স্মৃতি জাগিয়ে দিয়েও শেষরক্ষা হল না। তার পরেও অবশ্য মাঝে মাঝেই ফিরে যাই ‘দুই পুরুষ’-এ। দেখি উত্তমের ডান চোখের কোল বেয়ে জলের ধারা বইছে, পুরুষসিংহটিকে ঘাড় তোলার জন্যও নির্ভর করতে হচ্ছে সেই সব মানুষদের ওপর যারা সারা জীবন তাঁর ছড়ি ঘোরানোই দেখেছে। পরিচালক সুশীল মুখার্জী জানতেন উত্তম ছাড়া কারোর পক্ষে সম্ভব নয় জীবনের ওই আয়রনিটুকু রূপোলী পর্দায় ফুটিয়ে তোলার – সারা জীবন যার দাপটে তটস্থ হয়ে রইলাম, যাকে বলতে গেলে প্রায় ঘৃণা করতাম তাকেই শেষ শয্যায় দেখে গলার কাছটা ব্যথা ব্যথা করতে লাগল।

6

স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা, ফাঁসির কথা হল এতক্ষণ ধরে, কিন্তু ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ (১৯৫৯) এর সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্যটি তিনটে ক্যাটেগরির কোনোটাতেই ফেলা যাবে না বোধ হয়। ক্ষ্যাপাটে হাসি হাসতে হাসতে এগিয়ে আসছে তিরুমল, কুন্তীকে বলছে “কেউ কেড়ে নিতে পারবে না তোকে আমার থেকে”। হিংলাজের সব তীর্থযাত্রী উৎকণ্ঠায় স্তব্ধ হয়ে আছেন, তিরুমল এগিয়ে আসছে। কুন্ডের সামনে এসে শুধু একবারের জন্য থমকে দাঁড়িয়েছিল, তারপর আর তাকে দেখা যায়নি। সাত কি আট বছর বয়সে প্রথম যখন দেখি উত্তমের হাসিতে গায়ে কাঁটা দিয়েছিল, মনোবৈকল্য থেকে মৃত্যুর সঙ্গেও সেই প্রথম পরিচয়। এখনো দেখতে বসলে কোথাও যেন একটা অস্বস্তি থেকেই যায়।

8

‘কুহক’-এ (১৯৬০) অবশ্য উত্তমকে খুন করা হয়। ‘নাইট অফ দ্য হান্টার’ অবলম্বনে বানানো এই ছবিতে রবার্ট মিচামের চরিত্রের জটিলতা উত্তমের চরিত্রের মধ্যে সে ভাবে পাওয়া যায় না, কিন্তু সে দোষ চিত্রনাট্যকারের। উত্তম যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন, আউট অফ দ্য বক্স ভাবনাচিন্তা করেছেন। চোখের চাউনি, সংলাপের বিরতি, নিঃস্পৃহ গলায় শয়তানির আভাস আনা যা যা হাতের কাছে ছিল সবকিছু দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন চরিত্রটিকে কোনোভাবেই স্টিরিওটিপিক্যাল না করে তুলতে। কিন্তু বাংলা চিত্রনাট্য বলে কথা, নায়ককে কি আর পুরোপুরি শয়তান দেখানো যায়? তাই বাধ্য হয়েই প্রেমাংশু বসুকে আসরে নামানো হল, দূর থেকে ছোঁড়া ছুরির আঘাতে লুটিয়ে পড়লেন উত্তম। ভালো কথা, প্রেমাংশু বসুকে মনে আছে তো? ‘নায়ক’ এর বীরেশ, উত্তমের সেই আদর্শবাদী বন্ধু যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ট্রেড ইউনিয়নের কাজে।

9

‘সন্ন্যাসী রাজা’ (১৯৭৫) তেও খুন হতে হয় উত্তমকে, ভাওয়ালের রাজা অবশ্য বরাতজোরে বেঁচে ফিরে আসেন (বাস্তবেও কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে প্রিভি কাউন্সিল মেনে নেয় সন্ন্যাসী আদপেই ভাওয়ালের রাজা)। শেষ বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দেওয়ার মুহূর্তটিতে অতিনাটকীয়তা থাকলেও উত্তম পরের ক’টা মিনিটে অনবদ্য; বিষের যন্ত্রণায় আর্তনাদই হোক বা শুকিয়ে যাওয়া জিভ বার করে গোঙ্গানি, শেষের মুহূর্তগুলি উত্তমের অভিনয়ে অতীব বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।

10

11

‘অগ্নীশ্বর’ এর প্রসঙ্গ টেনে এ লেখা শুরু করেছিলাম, ‘অগ্নীশ্বর’ দিয়েই শেষ করি। কথায় বলে মৃত্যু হল ‘the gravest of all misfortunes’, অগ্নীশ্বর ডাক্তারের জন্য এর থেকে খাঁটি কথা আর কিছু হয় না; দরজার চৌকাঠে সেই যে হোঁচট খেয়ে পড়লেন, সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে পারলেন না। অগ্নীশ্বরের শেষ দৃশ্য অবশ্য আমি মনে রাখব উত্তমের হাঁটার জন্য। ওই যে গাড়ি দেখে শশব্যস্ত হয়ে হেঁটে দরজা দিয়ে বেরোতে গেলেন, অত সাবলীল, অত স্বাভাবিক হাঁটা দেখতে দেখতে মনে হয় ঘরের মধ্যেই যেন বসে আছি। নাটক হলে বলা যেত ‘ফোর্থ ওয়াল’ অর্থাৎ দর্শক এবং কুশীলবদের মধ্যের অদৃশ্য প্রাচীরটি যেন প্রতিটি স্টেপের সঙ্গে ঝুরঝুর করে ভেঙ্গে পড়ল।  পরিচালক অবশ্য তার পরেও কয়েক মিনিট বরাদ্দ রেখেছিলেন, অসহ্য একটা সাদা পরচুলা পরিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছিল উত্তমকে – সে দৃশ্য নেওয়া যায় না। তাই পাঠক, এ ব্লগপোস্ট পড়ে ফের যদি ‘অগ্নীশ্বর’ দেখার ইচ্ছে হয়, উত্তম হোঁচট খেলেই ডি-ভি-ডি প্লেয়ারটি বন্ধ করে দেবেন বা পজ দিয়ে দেবেন ভি-এল-সি মিডিয়া প্লেয়ারে।  ওর বেশী না যাওয়াই ভালো, নায়ক যাবেন নায়কের মতনই, তাই না?

12

13

(উত্তমকুমার কে  নিয়ে অন্য যে সব লেখা সাড়ে বত্রিশ ভাজায় প্রকাশিত হয়েছে সেগুলি পড়ার জন্য আসতে হবে এখানে।)

আদালতে কথোপকথন : ইসমত – মান্টো

ইসমত

ডিনার টেবলে  তোমার কথাই হল সেদিন, অক্লেশে

বলল “মান্টোকে তো চিনল না কেউ, বুঝলে সই”;

“বটে?” বলে মুচকি হেসে তাকিয়ে দেখি চেঁচাচ্ছে সে

“কি আশ্চর্য! এত্ত দেরী, পাজামা কই?”

 

মান্টো 

তবে! নাঙ্গা এত ঘুরছে লোকে, বলছে কথা,

লাহোর কোর্টে উঠবে তারা কোনোদিনে?

বন্ধ করে উঁকিঝুকি এদিকসেদিক  (যথা,

লেপের তলা)  জাজ বলবে “আসল দোষী নিলাম চিনে”।

 

ইসমত

দোষী চেনা সহজ নাকি? লাগবে না ধক্,

মান্টোভাই? আজকে যদি ‘দোজখি’ পড়ে শফিয়া বলে,

“খারাপ, খারাপ, খারাপ বেশক্,

মরা ভাইকে নিয়েও ডাইনীর কলম চলে”।

 

মান্টো 

পাঠক যা চায় বলবে, বদ্ নসিবে জ্বলবে, খুশ্ কিসমতে গলবে;

আমার প্রশ্ন অন্য,

সিনা যারা নিচ্ছে ছিঁড়ে, এবং বলছে ‘চলছে, চলবে’

সিনা নিয়ে লিখছি বলে কি তাদের থেকেও বন্য ?

 

ইসমত

সিনা এরা দেখল কোথায়? পাশেতেই মজুত বলে?

ও তো স্রেফ দলিত মথিত বস্তু জড়।

আঁধার রাতে হাতে নিয়েও পায় না, ফলে

দিনদুপুরে কাছারিতে আজ সওয়াল বড়!

 

মান্টো  

ওই দেখো বাদীর উকিল ডাকছে, তওবা-তওবা হাঁকছে

গুনাহ বলে গু্নাহ! নাকি

সারা লাহোর রাগে কাঁপছে ,

এখন শুধু মুখটা ঢেকে কোতল করাই বাকি।

 

ইসমত

এদিকেতে আরেক হুজুর বলছে কানে ,

চাইলে ক্ষমা, মিটিয়ে দেবে খরচাপাতি,

কথাটা যেন সেঁধোয় ভেতর প্রাণে

নাহলেই আদেশ হবে “ধর চাপাতি”।

 

মান্টো  

খারাপ শব্দ চলছে খোঁজা, প্রশ্ন আসে

ভদ্র ঘরের মেয়ের কি কাজ ‘আশিক’ ধরা  ?

এইবারেতে বিচারপতি অল্প কাশে,

ভদ্র কোথায়? বেশ্যা যখন, কি আর করা।

 

ইসমত

বেশ্যা বলেই ছাড় পেয়েছে শব্দরা সব,

‘আশিক’ কিন্তু ‘সিনা’র কাছে ফিরবে আবার

লাহোরে শুনতে পেলে ‘হোক কলরব’,

ইসমত-ও জানবে সময় ফেরত যাবার।

 

 

১। ইসমতের বিচার চলছিল ‘লিহাফ’ (লেপ) গল্পের জন্য,  উর্দু সাহিত্যে প্রথমবারের জন্য কোনো লেখিকাকে সমকামিতা নিয়ে লিখতে দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেছিল অবিভক্ত ভারত। যদিও সরকারপক্ষ অশ্লীল বিষয়বস্তুর থেকেও বেশী কথা বাড়ায় অশ্লীল শব্দ নিয়ে, যেমন ‘আশিক’।

২। ‘দোজখি’ ইসমতের আরেকটি গল্প, নিজের মৃত ভাইকে নিয়ে লেখা। মান্টোর বোন এবং স্ত্রী (শফিয়া) দু’জনেরই খুব অপছন্দের গল্প।

৩। ‘বু’ গল্পে ‘সিনা’ শব্দটি ব্যবহার করার জন্য কোর্টে তোলা হয়েছিল মান্টোকে,  ছ’বারের একবার।

 

১৫ই অগস্ট পূর্ণ হল ইসমত চুঘতাই-এর জন্মের একশ বছর।

 

 

Ismat-Manto