অ্যাকিলে সান্নিধ্যে – পর্ব জোয়ান মিরো

অ্যাকিলে আমার বন্ধু। এবার জিজ্ঞাসা করুন – ও কি করে? করুন, করুন! উত্তর –  প্রেসিডেন্ট ওবামার ওপর রাগ করে । মানে ওটাই ওর কাজ, ওটাই ওর প্যাশন। আমেরিকাকে যে ওবামা সোশ্যালিজমের নষ্ট পথে পাঠাতে চলেছেন সে নিয়ে ওর কোনো সন্দেহই নেই; সে সন্দেহ এতটাই বদ্ধমূল যে তিন বছর আগে ওর আইরিশ থিসিস অ্যাডভাইসর যখন আমেরিকায় ওকে পোস্ট-ডক করতে পাঠানোর জন্য হাতে পায়ে ধরছিলেন, নিষ্ঠুর অ্যাকিলে ভদ্রলোককে কাঁদিয়ে চলে গেছিল সিঙ্গাপুরে। আমেরিকা না গিয়েও এত প্রবল আমেরিকা বিদ্বেষী কাউকে আমি জীবনে প্রথম দেখলাম, সত্যি কথা বলতে গিয়ে এত কট্টর ক্যাপিটালিস্টও আমি আগে দেখিনি, এমনকি আমেরিকাতেও খুঁজে পাইনি। অথচ অ্যাকিলে নিজে ইটালিয়ান, একরাশ দাড়ি গোঁফ নিয়ে যখন নিমাঙ্গে একটা রঙ চটা জিনসের প্যান্টের মধ্যে সেঁধিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মনস্তত্ত্ব পড়ায় তখন কিন্তু ওকে দেখে বারলুসকোনি নয়, মনে পড়বে আন্তোনিও গ্রামশির  কথা। মোদ্দা ব্যাপার হল অ্যাকিলে পরস্পরবিরোধিতার মতন একটা অ্যাবস্ট্রাক্ট কনসেপ্টকে একটা থ্রী-ডাইমেনসনাল চেহারা দিয়েছে।

তবে সময় সময় আমার এটা খেয়াল থাকে না। যেমন এক্ষুনি ঘটল।

মিনিট দশেক ধরে ছবিটা দেখে টেখে বলল “ফাকিং রিটার্ড”।

আমিও দশ মিনিট ধরেই বোঝা চেষ্টা করছি এটা কার ছবি, ক্যাঙ্গারু না বাইসন না রামপাখি। কিন্তু তা বলে এতটা স্ট্রং ওপিনিয়ন আমি দেব না। বিখ্যাত স্প্যানিশ স্যুররিয়ালিস্ট শিল্পী জোয়ান মিরোর প্রদর্শনী দেখতে এসেছি,  নামের ভারে এ চত্বরে ঢোকা ইস্তক কুঁজো হয়ে আছি।

JM2

আমি বললাম “কিছু একটা মানে আছে, আরেকটু ভালো করে দেখা দরকার মনে হয়।”

অ্যাকিলের এবার একটু ভাবুক দশা “হ্যাঁ, মানে বোঝাটা বেশ কঠিন, ছবিটা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে কিন্তু আন্ডারলাইং ইনটেনশন টা কি সে বোঝা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়।”

আমি একটু হাঁ করে তাকিয়ে থেকে বললাম, “না মানে, ‘মানে’ বলতে ছবিটা যে কি সেটাই বলতে চাইছিলাম”।

অ্যাকিলে আমার দিকে তাকাল, “আমি বুঝতে পেরেছি তোমার পয়েন্টটা। ছবিটায় একজন টুপি পরা ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু সেটা একটা ইল্যুশন। দেখো ওঁর বাঁ দিকে একটা তারা, কিন্তু তারাটা নেমে এসেছে কোমরের কাছে। তার মানে উনি মোস্ট প্রব্যাবলি দাঁড়িয়ে নেই, ভাসছেন সম্ভবত। পায়ের থেকে দেখো একটা পেরেক মতন উঠে আছে, এটাও হতে পারে যে ওনাকে একটা ক্রুশে গেঁথে রেখেছেন আমাদের শিল্পী।”

আমি তাড়াতাড়ি বললাম, “এটাও হতে পারে তারাটা সেই তারা যেটা যীশু জন্মানোর সময় দেখা গেছিল। আরেকটা এক্সপ্ল্যানেশন হতে পারে যে নারীচেতনা আসলে একটা ক্রুশবিদ্ধ এনটিটি, আমরা শুধু মেয়েদের সুন্দর টুপি পরিয়ে সব যন্ত্রণা ভোলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

অ্যাকিলের একটা সপ্রশংস দৃষ্টিতে তাকিয়ে পিঠে বিশাল চাপ্পড় মেরে বলল, “ফাকিং……”

আর তক্ষুণি বুঝলাম ‘ফাকিং রিটার্ড’ আসলে ফাকিং রিটার্ড নয়, জিনিয়াস।

ততক্ষণে অবশ্য অ্যাকিলে পরের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছে।

JM 3

এবারে অবশ্য আমার আগেরবারের মতন পারফরম্যান্স নয়, বুঝতেই পারলাম শিল্পী  এক মহিলা, এক পাখি এবং  একাধিক তারাকে একসঙ্গে ফ্রেমবন্দী করেছেন।

আমি ফিসফিস করে শুধোলাম, “এই যে মহিলার সারা শরীর জুড়ে শুধুই ওনার ব্রেস্ট, এটা নিয়ে কি বক্তব্য?”

অ্যাকিলে বেজায় চমকাল, “হোলি মোলি! ইউ আর রাইট, আমি তো ভাবছিলাম হার্ট টাকে উলটো করে আঁকা হয়েছে।”

আমি চমকালাম ততোধিক, সত্যিই তো! অ্যাকিলে বলার পর স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি মহিলার হৃদয়টিকে। কিন্তু গোল বেধেছে আমার বন্ধুকে নিয়ে, আমার ইন্টারপ্রিটেশন শোনার পর থেকেই সে হিসেব কষছে ফের কবে আসা যায়। একদিনে সব ছবির মর্মোদ্ধার করা অসম্ভব ব্যাপার।

অ্যাকিলে বলল, “তোমাকে তো কনজিউমার বিহেভিয়ার পড়াতে হয়। নিশ্চয় জানো ফ্রয়েড বলে গেছেন একটা জিনিস কেনার পেছনে ভোক্তা যে কারণটা দেখায়, আসল কারণ আদৌ সেটা নয়। তার অন্তত দু লেয়ার নিচে পৌঁছলে বোঝা যাবে আদত কারণটি কি।”

আমি ঘাড় নাড়লাম, “সে কথা আর বলতে! এই ধরো একজন আমেরিকান বেবি বুমার হঠাৎ বুড়ো বয়সে এসে স্পোর্টস কার কিনতে গেল কেন? সার্ভে বলছে স্পীড, বুড়োর সাবকনশাস বলছে যযাতি।”

‘যযাতি’ শুনে একটুও ভুরূ কোঁচকাল না – আমাদের মধ্যে এরকম রেফারেন্সের হরদম আদানপ্রদান চলতে থাকে, আক্ষরিক অর্থ না বুঝলেও কিছু এসে যায় না ভাবার্থ বুঝলেই চলবে।

“এক্স্যাক্টলি সো, এবার ভেবে দেখো ছবিটা আঁকা হয়েছে ১৯৪২ সালে। তার মানে স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারের তিন বছর পরেই, ওই যুদ্ধ নিয়ে কিছু একটা ব্যঞ্জনা থাকার হাই চান্স। ওই পাখিটাকে জেনারল ফ্র্যাঙ্কো ভাবলে কেমন হয়? দেশমাতৃকার বুক (এই জায়গায় আমি গলা খাঁকরে বললাম “ইয়ে, হৃদয়”) খুবলে নিতে আসছে……”

বলতে বলতে একটু থেকে গেল অ্যাকিলে, তারপর চোখ বড় বড় করে বলল, “আরে স্পেন নয়, স্পেন নয়। ইনি ২০১৪-র পৃথিবী, আর ওই কালো পাখিটা হল……”

অ্যালেগরিক্যাল ভয়ের চোটে আমি পা বাড়ালাম, “এগোনো যাক, নাহলে চার-পাঁচ টা ছবি দেখেই বাড়ি ফিরতে হবে।” টার্কি বর্ডারে যুদ্ধু বেধেছে, কোথায় কোথায় সি-আই-এ, এফ-বি-আই রা ঘাপটি মেরে আছে কে জানে।

JM4

তৃতীয় ছবিটি মোটের ওপর বেশ বিখ্যাত, আমরা একজিবিশনে ঢোকার আগেই জোয়ান মিরোর ওপর গুগল সার্চ করতে গিয়ে পেয়েছি। সেই সুবাদে নামটিও জানা –  ”Women dreaming of escape”।  এখন আপনি যদি প্রশ্ন করেন রমণীকূল কোথায় তাহল একটু বিপদে পড়তে হতে পারে। দূর থেকে দেখলে ছবির মাঝখানে তিনটে শিংওলা গরুর মাথার মতন যে বস্তুটি দেখতে পাচ্ছেন, অ্যাকিলের ধারণা  সেটি আসলে এক ভগ্নহৃদয়া নারী। সমস্যাটা হল ছবি পরিচিতিতে বলা হয়েছে জোয়ান শুধু ছবিই আঁকেন নি এ ক্ষেত্রে, ছবির মধ্যে রেখে দিয়েছেন অসামান্য সব ক্যালিগ্রাফি। কিন্তু ভগ্নহৃদয়া নারী আদৌ কোনো শাব্দিক দ্যোতনা ছড়াচ্ছেন কিনা সেকথা ‘অক্ষরে অক্ষরে’ মেলানো গেল না। আমি একটু হতাশ হয়ে পিছিয়ে এসে ইতিউতি তাকাচ্ছিলাম, যদি মিউজিয়ম কিউরেটর বা অন্তত পক্ষে কোনো গাইডের সন্ধান পাই। সেরকম কাউকে দেখতে পেলাম না, অ্যাকিলেকে ডাকতে গিয়ে ছবিটার ওপর আবার চোখ পড়ল। আর তক্ষুনি বুঝলাম ইউরেকা মোমেন্ট কাকে বলে।

আমার ডাকাডাকিতে অ্যাকিলেও পিছিয়ে এসেছে, ওকেও দেখালাম কেন সামনে থেকে এ ছবি বুঝতে অসুবিধা আছে। সামনে থেকে যা মনে হচ্ছে ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয়, দূর থেকে দেখলে সেটাই বোঝা যাচ্ছে আস্ত একটা শরীর। আগেরবারকে হার্টকে ব্রেস্ট ভেবেছিলাম, এবারে প্রায় উল্টোটা – হার্ট আই মীন শরীরের মধ্যে ব্রেস্টের আভাসটুকুও দিব্যি বোঝা গেল এবার। কানের পাশ থেকে শিং এর মতন তিনটে যে লাইন বেরিয়েছে অ্যাকিলে পাঠোদ্ধার করে বলল ওগুলো নেহাতই চুল।  আর ওর পাশেই যে গোল্লা আর সরলরেখার কম্বিনেশনটা দেখতে পাচ্ছেন সেটা আর কিছুই নয় – মই। এবারে এসকেপ রহস্য বোঝা গেল তো?

অ্যাকিলে এদিকে দেখি খুঁতখুঁত করছে, হাত দুটো মুঠো করে বেশ উত্তেজিত ভঙ্গীতে নাড়ানাড়ি করছে। ইটালিয়ানরা হাত দিয়েই কথা বলে, সেটা ইটালি ঘুরতে গিয়েও দেখেছি। অ্যাকিলের হাতের ভাষা আক্ষরিক অর্থে বুঝতে না পারলেও বেশ বোঝা গেল স্পীচ বাবলে ওকে কনভার্ট করতে গেলে মড়ার খুলি, বাজ, স্পাইর‍্যাল এসব দিয়েই কিছু বোঝাতে হবে। আমার দিকে ঘুরে বলল “এই ছেলেমানুষি দেখার জন্যই কি পয়সা খরচ করে এলুম?” আরো চটে যাবে ভেবে ওকে আর মনে করালাম না যে প্রফেসরদের ঢোকাটা ফ্রী, তার ওপর আবার ইউনিভার্সিটিরই অ্যালুমনি মীট ওই মিউজিয়মের ওপর তলাতেই হচ্ছে বলে শরাব এবং আনুসঙ্গিক চাটপত্র-ও নিখরচায় পাওয়া যাচ্ছে। ওর উত্তেজনার কারণটা বোঝার চেষ্টা করছি, অ্যাকিলে বলল “মইটা কোথায় পৌঁছেছে দেখো? পাখিটার কাছে।” বুঝলাম ওই ঢেউ খেলানো রিবনের মতন জিনিসটা পাখি। “কোন মহিলা স্বপ্নে পাখি হয়ে উড়ে যেতে চায়? স্বপ্ন নিয়ে ফক্কুড়ি করলেই হল?” আমি চুপ করে গেলাম, ফ্রয়েড- ইয়ান ওয়ালেস গুলে খাওয়া সাইকোলজির প্রফেসরের সঙ্গে স্বপ্ন নিয়ে আলোচনার ধৃষ্টতাই নেই, তার কথায় সন্দেহ করা তো দূরস্থান। ভাবলাম একবার বলি – মই হয়ত নিয়ে যাবে অন্য কোনো দুনিয়ায়, পাখিটা নেহাতই এ পৃথিবীর শেষ সিম্বল। কিন্তু কি দরকার বাবা ঘাঁটিয়ে; ইদানীং বার বার স্বপ্ন দেখছি হায়ার সেকন্ডারির কেমিস্ট্রী সেকন্ড পেপারের পরীক্ষা দিতে বসেছি, এদিকে ইকোনমিক্সের থিয়োরী ছাড়া কিছুই মনে পড়ছে না। একদিন তো ক্ষেপে গিয়ে শেষে অগস্ট কেকুলে স্বপ্নে একটা সাপকে নিজের লেজ চিবিয়ে খেতে দেখে কিভাবে বেঞ্জিনের রিং আবিষ্কার করেছিলেন সেই গপ্পোটাই লিখে দিয়ে এলাম কিন্তু যে ভাবে বারবার পরীক্ষার স্বপ্ন ফিরে আসছে তাতে বোঝা যাচ্ছে পরীক্ষক ও গল্প পড়ে সন্তুষ্ট হন নি। এখন এ বিদেশ বিভূঁই-এ ফ্রী তে কাউন্সেলিং করাতে গেলে ওই অ্যাকিলেই ভরসা, চটে গেলেই কম্মো শেষ।

 

সে দেখি ততক্ষণে ঘরের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে অন্য সব ছবি না দেখেই, কারণ সেখানে বিশাল একটি স্টেজের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে মিরোর বিখ্যাত ‘ফ্যান্টাসম্যাগোরিক’ ভিনগ্রহীদের একজন – সেইসব ভিনগ্রহী যাদের শুধুমাত্র আপনার কল্পনা অবচেতন মনের পাথর কুঁদে কুঁদে তৈরী করতে পারে।

 

JM_Alien

 

দূর থেকেই দেখতে পেলাম অ্যাকিলে হাতের মুঠো ঝাঁকাচ্ছে। আমি নিঃশব্দে সরে গিয়ে আরো তারা, আরো পাখি, আরো বিশালহৃদয়া নারীদের সান্নিধ্যে বাকি সময়টুকু কাটানোর চেষ্টা করছিলাম, আচম্বিতে কানের কাছে ভারী হাঁই-মাঁই আওয়াজ। তাকিয়ে দেখি আমার বন্ধু, বেজায় উত্তেজিত। মুঠো ভাষায় টের পেলাম আমি কিছু একটা বিশাল বোকামি করে ফেলেছি।  হাত ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে গেল ফ্যান্টাসম্যাগোরিক মনস্টারের সামনে। “কি বুঝছ?”

আমি ন যযৌ ন তস্থৌ অবস্থায় দাঁড়িয়ে।

“ক্রেজি বাস্টার্ড ম্যান, ক্রেজি বাস্টার্ড!”

আমি আরেকটু ভালো করে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম ভিনগ্রহীকে আদৌ ক্রেজি বাস্টার্ড সুলভ দেখতে লাগছে কিনা। আর আবারো ঠাহর হল ভুল করেছি।

ওহেন মধুর সম্ভাষণ সৃষ্টি নয়, বরাদ্দ হয়েছে স্রষ্টার জন্য।

বেজায় উত্তেজিত অবস্থাতেই জিজ্ঞাসা করল, “কি দেখতে পাচ্ছি স্কাল্পচার টার মধ্যে?”

আমি ইতস্তত করে বললাম “কুমড়োপটাশ”।

ইয়ার্কি নয়, জোয়ান মিরোর ভিনগ্রহীর হাত-পা ঠিক সুকুমারের কুমড়োপটাশের মতনই। কিন্তু অ্যাকিলে এই মুহূর্তে বাঙ্গালী রেফারেন্স নিয়ে রঙ্গরসিকতার করার পক্ষে একটু বেশীই উত্তেজিত হয়ে আছে। “নো ফটাশ ম্যান, লুক অ্যাট হিজ পিনাস”।

তাকালাম; জায়গাটা প্রায় পেট আর তলপেটের মাঝখানে হলেও মনে হল অ্যাকিলে ধরেছে ঠিকই।

অ্যাকিলের চোখ গোল গোল হয়ে গেছে, ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে “বুঝলে না? ভাস্কর এখানে নিজেই ছেলেমানুষ হয়ে গেছেন, ছেলেমানুষী খেয়ালে গড়ে তুলেছেন এক ছেলেমানুষী দৈত্য।”

আমি ভয়ে ভয়ে শুধোলাম “কিন্তু পিনাস”?

“আহ হা, ওটাই তো কথা। সারা শরীরের মধ্যে তোমার ওটাই চোখে পড়ছে কিনা?  হবেই তো। অস্বস্তিও হচ্ছে কিনা? তাও তো হবেই। কারণ তুমি একটা ধেড়ে। আজ তুমি একটা শিশু হলে এ সমস্যা হত না। শিশুদের থেকে ইনোসেন্ট আর কে আছে, আর তাই জন্য একমাত্র তারাই পারে নির্দ্বিধায় তাদের যৌনাঙ্গকে একজিবিট বানাতে। সেই সঙ্গে এটাও মনে রেখো যে ফ্রয়েড বলে গেছেন শিশুদের যৌনচেতনার প্রথম উন্মেষ ঘটে স্তন্যপানের সঙ্গে সঙ্গেই”।

এই প্রথমবারের জন্য ওকে স্পষ্টাস্পষ্টি বলতে শুনলাম, “ব্রিলিয়ান্ট, ব্রিলিয়ান্ট, ব্রিলিয়ান্ট”। ভারী খুশী হয়ে দু মুঠো ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে এগিয়ে গেল অ্যাকিলে।

মাথা নেড়ে জোয়ার মিরোর তারিফ করতে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ খেয়াল হল বার বার তিনবার একই ভুল করছি না তো!

কাকে বলল ব্রিলিয়ান্ট? জোয়ান মিরো নাকি নিজেকেই?

JM1

Advertisements

3 thoughts on “অ্যাকিলে সান্নিধ্যে – পর্ব জোয়ান মিরো

    • শিঞ্জিনী – আমরা তো যখন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ছিলাম তখন বিহেভিয়রাল ইকোনমিক্স প্রায় পড়িইনি, এই সাবজেক্টটার সাথে পরে পরিচয় ঘটে। দারুণ ইন্টারেস্টিং একটা সাবজেক্ট, পারলে Dan Ariely-র লেখা দু’একটা বই পড়িস – আমি সিওর তোর খুব ভালো লাগবে। এ ছাড়াও ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সে থাকার দরুণ সাইকোলজিও আলাদা করে পড়তে হয়েছে, সেটাও যে কি ইন্টারেস্টিং কি বলব। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ নিয়ে পড়ার অপশন এত লিমিটেড (অন্তত আমাদের সময়ে তাই ছিল) ইকোনমিক্সের বহু ছেলেমেয়েই জানে না সাইকোলজিতে কি মণিমুক্তো লুকিয়ে আছে।

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s