হত্যা হাহাকারে – ১

Image

(উৎস – গুগল ইমেজেস)

বোম্বাইয়ের বোম্বেটেতে তোপশে বলেছিল “খ-য়ে হ্রস্বউ আর ন – এই দুটো পর পর জুড়লে যেন আপনা থেকেই শিউরে উঠতে হয়।” ১৯৭০-৮০ তেও হয়ত শিউরে উঠতাম, কিন্তু ২০০০ পরবর্তী ডিটেকটিভ ফিকশনে এত ডার্ক শেডস, মামুলি দু’একটা খুনে পাঠক সমাজের নিতান্তই মন ভরছে না। আর লেখকরা পাঠকদের মনোবাঞ্ছা পূরণে যে সব প্যাঁচ-পয়জার দেখাচ্ছেন তার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে রিভিউয়ারদের রীতিমতন বডি-কাউন্ট রাখতে হচ্ছে! বিশ্বাস না হলে এই দেখুন

কিন্তু নিছক সংখ্যার থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল প্লটলাইন। আর সেখানেই বর্তমান লেখকদের বেশ কয়েকজন অসাধারণ মুন্সীয়ানার পরিচয় দিচ্ছেন। আমি অবশ্য এখানে প্লট বলতে খুনের অব্যবহিত আগে কি ঘটছে তার কথাই বলছি। সত্যি কথা বলতে কি এই একটা জায়গায় আমি সত্যজিৎ-শরদিন্দুর থেকে নীহাররঞ্জন কে এগিয়ে রাখব। ফেলুদা-ব্যোমকেশের তুলনায় কিরীটীর গ্রে সেলস যে বেশ খানিকটা কম সে নিয়ে কারই বা সন্দেহ আছে, কিন্তু খুনের সময়গুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে নীহাররঞ্জন যে ভয়াল বিভীষিকার আমদানি করতেন, তার সঙ্গে কম্পিট করার সাধ্য প্রায় কারোর নেই। এবং যদি একটু মন দিয়ে ভাবেন  তাহলে দেখবেন যে সত্যজিৎ-শরদিন্দুদের লেখায় অধিকাংশ সময়েই পাঠক কিন্তু অকুস্থলে হাজির থাকে না। ফেলুদা বা ব্যোমকেশের মাধ্যমেই সে খবর পায়।

যাই হোক, আজকে অবশ্য যাকে নিয়ে লিখছি তিনি বঙ্গভূমির কেউ নন, তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ার। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ডিটেকটিভ ফিকশন বললেই এখনো আমাদের সেই ড্র্যাগন-ট্যাটু ওলা মেয়েটির কথা মনে পড়ে যে শুধু আগুন নিয়েই খেলেনি, রীতিমতন বোলতার চাকে খোঁচাও মেরেছিল। যে মেয়ে আগুন নিয়ে খেলে (আক্ষরিক অর্থে হোক বা না হোক), তাকে আমি বেজায় ডরাই। তার কথা অন্য আরেকদিন বলব। কিন্তু তার আখ্যানকে শুধু ডিটেকটিভ ফিকশন হিসাবেই দেখলে বেজায় ভুল হবে, ওটা রীতিমতন একটা অ্যানথ্রোপলজিকাল ও সোসিওলজিকাল দলিল। হয়ত এত ডার্ক শেডসের জন্যই তথাকথিত ডিটেকটিভ ফিকশনেও সামাজিক সমস্যাগুলির এত প্রাধান্য, এবং যে ভাবে সেগুলোকে ধরে কাটাছেঁড়া করা হয়, তাতে সময় সময় বেশ সন্দেহ লাগে যে ‘স্যানিটি’-র আটপৌরে ডেফিনিশনটা এখনো অক্ষত আছে কিনা। জো নেসবোর বইগুলো পড়ার সময়েও এই সন্দেহটা আসেই, কিন্তু ইনি বীভৎসরসে এতটাই পারদর্শী যে আপনার হিম হয়ে যাওয়া হাড় থেকে থেকে মনে করিয়ে দেবে আপনি বাঁচলে বাপের নাম। জো নেসবো গত দু বছর ধরে বারে বারে আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছেন। হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়া সত্ত্বেও দৌড়ে বেরিয়েছি অন্ধকার, বরফে ঢাকা নরওয়ের অলিতে গলিতে। সদা বিষণ্ণ, প্রায় সুইসাইডাল  প্রোটাগনিস্ট হ্যারি হোলকে নিয়ে পরে লেখার ইচ্ছে রইল, আজকে থাক।

” Is this what you are looking for?”
She had neither seen nor heard a thing. But in front of her sat a figure, crouched down. It. Sylvia scrambled back, but the figure followed with the hatchet held out to her. …….. “I want  you to eat snow”, the voice said, getting up and briefly holding the side where the jacket had been slashed open.
“What?” Sylvia exclaimed, in spite of herself.
“I want you to eat snow until you piss yourself.” The figure stood slightly outside the radius of the steel wire, tilted its head and watched Sylvia. “Until your stomach is so frozen and full that it can’t melt the snow any longer. Until it’s ice inside. Until you’ve  become your true self. Something that can’t feel.” (Snowman, 2010)

ভুলেও ভাববেন না এ নিছক টর্চার-পর্ন ; আর লিঙ্গ সত্যিই এখানে কোনো ফ্যাক্টর নয়। স্পয়লার দিতে চাই না কিন্তু এটুকু বলাই যায় যে এই আধিভৌতিক ছায়ামূর্তির-ও (লক্ষ্য করুন সর্বনামের ব্যাবহার – But in front of her sat a figure, crouched down. It.) একটা কনভিকশন আছে – Until you’ve  become your true self, ওটাই মূল উপজীব্য!

(চলবে)

Advertisements